হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম সেরা ১০ উপন্যাস

লেখালেখির জীবনে উপন্যাস , গল্প , নাটকে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কথার জাদুকর  হুমায়ূন আহমেদ । তার মোট প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় তিনশত । এদের মধ্যে তার সেরা ১০ টি উপনাস্যের পরিচিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলোঃ


১. নন্দিত নরকে

 

নন্দিত নরকে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত হওয়া উপন্যাস। এরপর উপন্যাটি আহমদ ছফা পুস্তাকারে

প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এরপর এই উপন্যাসটি তখন খান ব্রাদার্স এন্ড কোং কর্তিক গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয়। 

একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের দুঃখ ও কষ্টের জীবন সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে তার এই নন্দিত নরক উপন্যাসটি 

রচিত হয়েছে। পরিবারের চার ভাই-বোনের মধ্যে বড়ো মেয়ে রাবেয়া ছিলো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। মূলত রাবেয়াকে 

ঘিরেই পুরো গল্পের পটভূমি। এছাড়া গল্পের আরোও চরিত্রের মধ্যে আছে মা, বাবা, ভাই, বোন,  শফিক সহ 

অনেকেই।

 

২. শঙ্খনীল কারাগার

শঙ্খনীল কারাগার হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস হলেও এই উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় একজন দক্ষ 

জীবনশিল্পীর ছোয়া পাওয়া যায়।এই উপন্যাসের কথোক 'খোকা'।  তিনি ছিলেন একটি কলেজের শিক্ষক।  

তারা ছিলো ছয় ভাই বোন - রাবেয়া, রুনু, খোকা, ঝুনু,  মন্টু আর নীনু। সবার বড়ো বোন ছিল রাবেয়া। 

রাবেয়া ছিলো খোকার মায়ের আগের পক্ষের মেয়ে। আবিদ হোসেন নামক এক লোকের সাথে কোন 

এক অজানা কারণে খোকার মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছিলো। তখন সে তাদের বাড়ির চিলেকোঠায়

থাকা চাকরি সন্ধানরত বিএ পাস আজহার হোসেনক্র বিয়ে করেন।

৩. জোছনা ও জননীর গল্প

‘জোছনা ও জননীর গল্প’ ২০০৪ সালে একুশে বই মেলায় প্রকাশিত হয়।জোছনা ও জননীর গল্প ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি  উপন্যাস । উপন্যাসে বারবার উঠে এসেছে ১৯৭১ সালের বীভৎস সেই ভয়াবহতার চিত্রগুলো। মুক্তিযুদ্ধের সময় এইদেশের অনেকেই দেশান্তরিত হয়েছিলো। অনেকে তাদের  প্রিয়জনকে হারিয়েছেন ।এতো তয়াগের পর  আজ আমরা স্বাধীন হয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন  ব্যক্তি পর্যায়ে সেই সময়ে  মানুষের অনুভূতিগুলো তখন মুক্তিযুদ্ধের সময় কেমন ছিলো তা লেখক বিভিন্ন ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন এই বইটিতে।

৪. দেবী

১৯৮৫ সালে ‘দেবী’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি হুমায়ুন আহমেদের অন্যতম সেরা  সৃষ্টি মিসির আলী সিরিজের একটি  বই। দেবীর মাধ্যমেই হুমায়ূন আহমেদ প্রথম মিসির আলী  চরিত্রকে  পাঠকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মিসির আলী ছিলেন একজন অতি সাধারণ মানুষ। যিনি মানুষের মন নিয়ে অনেক পড়ালেখা করেন এবং মাঝে মাঝে তিমি  অতিপ্রাকৃতিক বা অলৌকিক বিষয়ের ব্যাখ্যাও দিতে চেষ্টা করেন।এই  বইটি কোন ভৌতিক কোন বই নয়, তবুও রাতের অন্ধকারে একাকী নির্জন ঘরে বসে বইটি পড়লে এক  রহস্যময়তা অনুভব করতে পারবেন।

৫. মধ্যাহ্ন

১৯০৫ সালের গ্রামীণ প্রেক্ষাপটকে ঘিরে  ‘মধ্যাহ্ন’ উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। মধ্যাহ্ন দুই খন্ডের উপন্যাস। যার প্রথম খন্ডটি প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে আর দ্বিতীয় খন্ডটি প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে। 

এ উপন্যাসে লেখক একটি ঐতিহাসিক পটভূমিকে বিশেষ ভাবে পরোক্ষ করেছেন।এই ঐতিহাসিক পটভূমির অংশ হিসেবে বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলাকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি! এই উপন্যাসটির অন্যতম চরিত্র সৎ ব্যবসায়ী হরিপদ সাহা। যিনি একটি মুসলিম ছেলেকে আদর করেছিলেন যার কারণে তাকে সমাজচুত করা হয়েছিলো । একই ধরনের আপরাধে দোষী হলে আরেক চরিত্র ব্রাহ্মণ অম্বিকা ভট্টাচার্য ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে  হইয়ে যান সিরাজুল ইসলাম ঠাকুর ।

৬. দেয়াল

এটি একটি ইতিহাস ভিত্তিক উপন্যাস। যেখানে লেখক দুইটি আখ্যান সমান্তরাল ভাবে লিখে উপন্যাসটিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। বইটির প্রথম আখ্যানে রয়েছে অবন্তি নামে এক তরুণির। যে ঢাকা শহরে নিজের পিতামহের সঙ্গে থাকে। তার দাদা কিছুটা রক্ষনশীল মানসিকতার। তিনি সব সময় অবন্তিকে নজরদারিতে রাখেন, অবন্তির মায়ের চিঠি লুকিয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা ঢাকা শহর থেকে পালিয়ে যায়, আশ্রয় নেয় এক পীরের বাসায়। এই সব কিছুই এই বইয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে। বইটিতে গল্পের ভেতর দিয়ে ইতিহাসকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যার ফলে অনেক জটিল বিষয়ও পাঠকের কাছে সহজ রুপে ধরা দিয়েছে।

৭. একজন মায়াবতী

‘একজন মায়াবতী’ হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় প্রেমের উপন্যাস। এই গল্পে সবার কাছেই মনজুরকে অনেক ভালো লেগেছিলো । সবচেয়ে বেশি তাকে ভালো লেগেছে এজন্য যে তার মধ্যে কোনো ভাব নেই। সবাই কিন্তু ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না। প্রত্যেকে তার  নিজের মতো করে ভালোবাসে। মনজুরও মীরাকে অনেক ভালোবাসে কিন্তু মীরা তা কখনোই বুঝতে পারেনি। এভাবেই এই গল্পটি এগোতে থাকে। 

৮. শ্রাবণ মেঘের দিন

‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ হুমায়ূন আহমেদের আরো একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক উপন্যাস। গল্পের মূল চরিত্রে ছিলেন মতি, সে পেশায় একজন গায়ক তাকে মনে মনে ভালবাসে ঐ গ্রামেরই একমেয়ে কুসুম। তার গানের গলাও বেশ ভালো। সে সব সময় ভাবতো মতি মিয়াকে নিয়ে একটা গানের দল করে বিভিন্ন দেশে দেশে ঘুরে বেড়াবে। কিন্তু ঢাকা থেকে আসা ঐ গ্রামের জমিদার এর  নাতনি শাহানা কে ভালোবাসে মতি তবে জানে না শাহানা তাকে শুধুমাত্র একজন ভালো মানুষ হিসেবে মুল্যায়ন করে মাত্র। মতি, কুসুম এবং শাহানাকে নিয়েই  অনেক সুন্দর একটি গল্পের বই শ্রাবণ মেঘের দিন । 

৯. দারুচিনি দ্বীপ

‘দারুচিনি দ্বীপ’ হুমায়ূন আহমেদ এর শুভ্রকে নিয়ে লেখা উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উপন্যাস । উপন্যাসটিতে কানাবাবা নামে পরিচিত  শুভ্র এবং তার বন্ধু-বান্ধবরা প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে যাওয়ার আয়োজন করে। পুরো উপন্যাসটিতে শুধু তাদের সমুদ্রে যাওয়ার আয়োজন এবং না যেতে পারার আশঙ্কাটুকুই আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এই উপন্যাসটির শেষ পর্যন্ত তারা কেউ সমুদ্রে যেতে পারেনি। উপন্যাসটি শেষ হয় এর পাত্র-পাত্রীদের সমুদ্রযাত্রার উদ্দেশ্যে ট্রেনে চড়ার দৃশ্য দিয়ে। লেখকের ভাষায়, তিনি এই উপন্যাসটিতে   পাত্র-পাত্রীদেরকে সমুদ্রে নিয়ে যেতে পারেননি, তার কারণ তিনি নিজেই তখনও সমুদ্রে ঘুরতে যাননি। পরবর্তীতে অবশ্য লেখক তিনি দারুচিনি দ্বীপ এর দ্বিতীয় খন্ড রূপালী দ্বীপ রচনা করেন, যেখানে তাদের মিশন দারুচিনি দ্বীপ পূর্ণতা লাভ করেছিলো ।

১০. তন্দ্রাবিলাস

‘তন্দ্রাবিলাস’ হুমায়ূন আহমেদ এর মিসির আলি চরিত্র নিয়ে লেখা উপন্যাসগুলোর ১১ নম্বর উপন্যাস। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৯৭ সালে। তন্দ্রাবিলাস উপন্যাসটি মানুষের অবচেতন মন, পরাবাস্তব জগৎ এর এক রহস্যময় মেলবন্ধন।

 

হুমায়ুন আহমেদ এর জনপ্রিয় উপন্যাস,প্রেমের উপন্যাস, বাংলা বই, বাংলা উপন্যাস, সাইন্স ফিকশন, ভ্রমণ কাহিনী, মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস, শিশু কিশোর উপন্যাস, হিমু সিরিজ, মিসির আলী সিরিজ, আত্মজীবনী ডাউনলোড করুন ও পড়ুন ফ্রি।



top 10 book by humayun ahmed


Post a Comment (0)

Ads

Ads